আজকের দিনে দ্রুতগতির ইন্টারনেট আমাদের প্রতিদিনের কাজের প্রধান অংশ। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন কিংবা যেকোনো স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের জন্য আমাদের ইন্টারনেটের দরকার হয়। বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চমক হলো ৫জি (5G) প্রযুক্তি। তাই এই নতুন প্রযুক্তির ভালো-মন্দ এবং আমাদের দেশের অবস্থা সম্পর্কে সহজভাবে জানা জরুরি।
৫জি প্রযুক্তির সুবিধা ও উদাহরণ: ৫জি-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সুপার-ফাস্ট স্পিড এবং চোখের পলকে ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষমতা। এটি ৪জি-র চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি গতি দিতে পারে। এর ফলে সেকেন্ডের মধ্যে বড় ফাইল ডাউনলোড করা, বাফারিং ছাড়া ফোর-কে (4K) ভিডিও দেখা এবং আটকে যাওয়া ছাড়াই অনলাইন গেম খেলা যায়। এছাড়া এর ধারণক্ষমতা এত বেশি যে, লাখ লাখ স্মার্ট ডিভাইস একসঙ্গে একই নেটওয়ার্কে চলতে পারে।
৫জি প্রযুক্তির অসুবিধা ও কারণ: এর কিছু বড় সমস্যাও রয়েছে, যার প্রধান কারণ এটি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গে কাজ করে। ফলে এর সিগন্যাল বেশি দূর যেতে পারে না। মাঝপথে কোনো বহুতল ভবন, দেয়াল বা পাহাড় থাকলে সিগন্যাল আটকে যায়। এমনকি ঝড়-বৃষ্টির মতো খারাপ আবহাওয়াতেও এর নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া এই প্রযুক্তি সচল রাখতে ঘন ঘন ছোট ছোট টাওয়ার বসাতে হয়, যা বেশ খরচসাপেক্ষ এবং এটি ব্যবহার করলে ফোনের চার্জও দ্রুত শেষ হয়।
বাংলাদেশে ৫জি-র বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশেও সীমিত পরিসরে ৫জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাচ্ছে। মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো বড় শহরের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এখন ৫জি সিগন্যাল পাওয়া যায়। ভালো খবর হলো, নতুন কোনো সিম কিনতে হবে না, পুরোনো ৪জি সিম দিয়েই কাজ চলবে। তবে আপনার ফোনটি অবশ্যই ৫জি সমর্থিত হতে হবে। পুরো দেশে এটি পুরোপুরি চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।