মৌল ও যৌগের মূল পার্থক্য হলো তাদের গঠন ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে। মৌল কেবল একটিমাত্র ধরনের পরমাণু দিয়ে তৈরি বিশুদ্ধ পদার্থ, যা ভেঙে অন্য কোনো নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না। অপরদিকে, দুই বা ততোধিক ভিন্ন মৌল রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে, যাকে ভাঙলে উপাদান মৌলগুলো আলাদা হয়ে যায়। নিচে মৌল ও যৌগের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. গঠন ও উপাদানের দিক থেকে
মৌল কেবল এক ধরনের পরমাণু নিয়ে গঠিত। একে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে অন্য কোনো উপাদান পাওয়া যায় না। যেমন অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন। অন্যদিকে যৌগ ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত হয়ে তৈরি হয়। একে রাসায়নিকভাবে ভাঙলে আলাদা আলাদা মৌল পাওয়া সম্ভব। যেমন পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি একটি যৌগ।
২. ধর্মের ক্ষেত্রে
মৌলের নিজস্ব স্থায়ী ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম থাকে এবং এটি নিজের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। কিন্তু যৌগের ধর্ম তার উপাদান মৌলগুলোর ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। যেমন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দুটোই গ্যাসীয় পদার্থ হলেও, এদের রাসায়নিক মিলনে তৈরি পানি একটি তরল পদার্থ।
৩. প্রতীক ও সংকেতের ক্ষেত্রে
মৌলকে সাধারণত একটি বা দুটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেমন কার্বনকে C এবং সোডিয়ামকে Na দিয়ে প্রকাশ করা হয়। অপরদিকে যৌগকে প্রকাশ করা হয় রাসায়নিক সংকেত দিয়ে, যা উপাদান মৌলগুলোর প্রতীকের সমন্বয়ে তৈরি হয়। যেমন খাবার লবণের সংকেত হলো NaCl।
৪. সংখ্যার দিক থেকে
পৃথিবীতে মৌলের সংখ্যা সীমিত। প্রকৃতি ও গবেষণাগার মিলিয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ১১৮টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু এই সীমিত সংখ্যক মৌলগুলোর পারস্পরিক সংযোগের ফলে পৃথিবীতে কোটি কোটি যৌগিক পদার্থ তৈরি হওয়া সম্ভব। তাই যৌগের সংখ্যা অনেক বেশি।
৫. ক্ষুদ্রতম কণার ক্ষেত্রে
মৌলের স্বাধীন অস্তিত্বসম্পন্ন ক্ষুদ্রতম কণা হলো পরমাণু। আর যৌগের স্বাধীন অস্তিত্বসম্পন্ন ক্ষুদ্রতম কণা হলো অণু। সংক্ষেপে বলা যায়, মৌল হলো পদার্থের মৌলিক একক, আর যৌগ হলো সেই এককের রাসায়নিক সংমিশ্রণ।